Image description

চট্টগ্রামে গ্রাফিতি আঁকা নিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দরবনে বনরক্ষীদের গুলিতে নাগরিকের মৃত্যু এবং সারা দেশে ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনায় নাগরিকদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। 

সোমবার (১৮ মে) দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, "চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর দেশে একটি নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সুন্দরবনে বনরক্ষীদের গুলিতে নাগরিকের মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এবং চট্টগ্রামে গ্রাফিতি আঁকার সময় নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে—তা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য।"

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসব ঘটনা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং জুলাইয়ের বিপ্লবী চেতনাকে ধারণ না করার কারণেই এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা জাতির মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি করছে।

বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বগুড়ার শিবগঞ্জে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে দুই ভাইকে হত্যা, সুন্দরবনে জেলের মৃত্যু, মাদারীপুরে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার এবং ফরিদপুর ও নোয়াখালীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সড়কে প্রতিদিন বহু প্রাণ ঝরে যাচ্ছে উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, "সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় সড়ক ও মহাসড়কে মৃত্যু মিছিল থামছে না। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।"

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের গ্রাফিতি আঁকার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দলের কর্মীদের যে ভূমিকা ছিল তা নিন্দনীয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ উপায়ে মোকাবিলা করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিচয়। তিনি অবিলম্বে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানবকণ্ঠ/ডিআর