Image description

শেখ হাসিনার জন্য দেশে ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরেন, তবে তা কেবল তাঁর বিরুদ্ধে ঘোষিত ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্যই হবে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে দেখা গেছে, ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। গত ১৬ বছরে দেশ যে ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে, এরপর আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরুক—তবে সেটি তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।’

তিনি আরও বলেন, গণহত্যাকারীদের বিচার বাংলাদেশে হয়ে গিয়েছে। এখন সরকারের দায়িত্ব হলো যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার দিল্লির সঙ্গে আলোচনা করবে। এখানে অন্য কোনো পক্ষের কথা বলার সুযোগ নেই। সরকার সব প্রস্তুতি নিয়েই তাঁকে ফিরিয়ে আনবে।

নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়। শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না; দিল্লি থেকে তাঁকে যতটুকু অনুমতি দেওয়া হয়, তিনি সেটুকুই বলেন। ফলে তাঁকে ফিরিয়ে আনা বা বিচারের রায় কার্যকর করার বিষয়টি ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করছে।

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা অংশ নিয়েছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি রক্ষায় আমরা পিছপা হব না। তবে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে যদি কেউ রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে এবং সরকার যদি তাতে প্রশ্রয় দেয়, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে খোদ সরকারই।’

আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলগতভাবে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। শেখ হাসিনার রায় ইতোমধ্যে হয়ে গেছে এবং এটি এখন কার্যকর করার সময়।

ন্যাশনাল এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে আসা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সফল উদ্যোক্তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

মানবকণ্ঠ/ডিআর