ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসতে পারেন কিন্তু ক্ষমতায় যাবেন না, যাবেন জেলে—এমন মন্তব্য করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ বলেছেন, ইদানিং শুনছি যে ছাত্র-জনতার ঝাঁটাপেটা খেয়ে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা এখন নাকি আবার দেশে ফেরার কথা বলছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে সোহেলো তাজ উল্লেখ করেন, ‘শেখ হাসিনা আসবেন ভালো কথা, কিন্তু আমার কথা হচ্ছে যে—একজন মানুষ কত নির্লজ্জ/বেহায়া হলে তার সকল কৃতকর্মকে (গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি, গণতন্ত্র কবর, নিজ স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপব্যবহার করা, দেশ এবং মানুষের সঙ্গে বিস্বাসঘাতকতা করা, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা, দুর্নীতি/লুটপাট করে লক্ষ্য লক্ষ্য কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা) অস্বীকার করে মানুষকে এবং দলকে বিভ্রান্ত করে এখন ফিরে আসার অবাস্তব স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘নিজের ভুল শিকার না করে, কোনো অনুশোচনা, আত্মসমালোচনা না করে বরং একটি মিথ্যা ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগ দলটিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছেন এবং দেশের মানুষকে একটি অন্ধকারের পথে ঠেলে দিচ্ছেন। ইতিহাস বলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত স্বৈরাচারের আবার ফিরে আশা এবং ক্ষমতা ফিরে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।’
পৃথিবীর ইতিহাসে তিন জন সফলভাবে ফিরে আসতে পেরেছিলেন উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা।
তিনি জানান, ১৯৫০ সালে ব্রাজিলের গুইতালিও ভার্গাস, দ্বিতীয় ৭০৫ সালে বিজান্টিন সম্রাট জাস্টিনিয়ান (২য়) এবং (১৮৩৩- ৫৫) মেক্সিকোর এন্টোনিও লোপেজ ডি সান্টা আনা। তাদের সবাইকে সামরিক অভ্যুথানে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, জনগণের স্বতঃর্স্ফূর্ত গণঅভুত্থানের মাধ্যমে না।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের জনগণ একটি গণঅভুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করে এবং তিনি বাধ্য হন পালিয়ে যেতে। ভুলে গেলে চলবে না যে তার সরাসরি নির্দেশে শিশুসহ শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়, ৬০০ মানুষ অন্ধ হয়ে যায় এবং হাজার হাজার নিরীহ মানুষ পঙ্গু হয়।
মানবকণ্ঠ/এমআর




Comments