দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। দৈনিক মানবকণ্ঠের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক অপরিপক্কতা, তার ‘বট বাহিনী’র আক্রমণ এবং ঢাকা-১৮ আসনে তার নির্বাচনের নেপথ্য সমীকরণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সাক্ষাৎকারে মেঘনা আলম জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। মেঘনা বলেন, “নাসির হোয়াটসঅ্যাপে এবং ফোনে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেছিল— ‘আপু, আমি আপনার কাছে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ নিতে চাই’। আমি তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলাম, একজনকে না শিখিয়ে বরং এনসিপির ১০০ জনকে নিয়ে একটি তালিকা করো, আমি সবাইকে একসঙ্গে ট্রেন করব। এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেলে বেশি ফলপ্রসূ হতো। কিন্তু এরপর সে আর কোনো এ্যারেঞ্জমেন্ট বা যোগাযোগ করেনি।”
নাসিরের স্বভাব নিয়ে মেঘনা আলম বলেন, “সে খুবই ইনোসেন্ট হার্ট নিয়ে হয়তো অনেক কিছু করে, কিন্তু অনেক সময় সে না বুঝেই এমন কিছু কথা বলে ফেলে যা বোকামি বা অভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে। তার আসলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক শিক্ষার অভাব রয়েছে। রাজনীতি তো মানুষ হাসানোর জায়গা না। হাসির খোরাক হয়ে বা গালাগালি করে জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়, কিন্তু সত্যিকার অর্থে কোনো পরিবর্তন আনতে যে স্ট্র্যাটেজিক বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজন, নাসিরের কাজে তার প্রতিফলন নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের দেশে এখন যারা হাসির খোরাক হতে পারে, তারাই জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের দেশের জন্য লজ্জার।”
এনসিপির বর্তমান কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মেঘনা আলম বলেন, “আমি যখনই জামায়াতের কোনো সমালোচনা করি, তখন এনসিপি পরিচয়ধারী বেশ কিছু আইডি থেকে আমাকে জঘন্য ভাষায় গালাগালি ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করা হয়। আমি এই বিষয়গুলো এবং ওই আইডিগুলোর স্ক্রিনশট নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নাহিদ ইসলামকে ফরোয়ার্ড করেছি। তাদের কাছে জানতে চেয়েছি— এরা কি সত্যিই আপনাদের লোক? আপনারা কি ‘বট বাহিনী’ কালচার শুরু করেছে? কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা কেউই আমাকে কোনো উত্তর দেয়নি। তাদের এই নীরবতা আমাকে ভাবিয়ে তুলছে।”
ঢাকা-১৮ আসনে নাসিরের নির্বাচন নিয়ে মেঘনা আলম দাবি করেন, সাধারণ মানুষ তাকে অনেকটা না বুঝেই ইমোশনাল হয়ে ভোট দিয়েছে। তিনি বলেন, “নাসির ওই আসনে জামায়াতের ‘পন’ (ঘুঁটি) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। জামায়াত জানত সরাসরি তাদের প্রার্থী দিলে শিক্ষিত সমাজ ভোট দেবে না, তাই তারা নাসিরের মতো একজন তরুণ ও শিশুসুলভ মানুষকে সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেনি যে নাসিরকে ভোট দেওয়া মানে পরোক্ষভাবে জামায়াতের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া।”
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মেঘনা আলম বলেন, “ব্যক্তিগত জীবনে ভালো থাকলেও দেশের অবস্থা এবং তরুণ রাজনীতিবিদদের কর্মকাণ্ড দেখে আমি হতাশ। আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বড়, কারণ তারা সাধারণ মানুষের আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তারা সেই প্রথাগত রাজনৈতিক দলের মতোই আচরণ করছে। একনায়কতন্ত্রের পরিবর্তনের পর আমরা যে নতুন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেখানে এই ধরনের আচরণ কাম্য নয়।”
উল্লেখ্য, ১৫ আগস্ট মেঘনা আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জানান যে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার কাছে রাজনীতি শিখতে তার বাসায় যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
ডিআর




Comments