Image description

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার ও প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, প্রশাসনকে কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।

রোববার (১১ অক্টোবর) সিলেটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ মাওলানা এমরান আলম।

মামুনুল হক বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে মানুষের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের ভুল সিদ্ধান্ত, ক্ষমতালিপ্সা ও স্বার্থপরতার কারণে তা ব্যর্থ হতে দেওয়া যায় না। জুলাই সনদ প্রণয়নে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ নয় মাসের আলোচনা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ৮৩টি অধিবেশনের মধ্য দিয়ে যে সংস্কারপ্রক্রিয়া এগিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিল সরকার গঠনের নির্বাচন আর গণভোট ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের মতামত প্রকাশের উপলক্ষ—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে গণভোটের রায় উপেক্ষা করা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী। গণভোটের রায় কার্যকর হলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা রোধ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত, প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।

বিএনপি সরকারের উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের রায় উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন সফল হবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণই এর জবাব দেবে।

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, এ খাতকে অকার্যকর করে রপ্তানিমুখী বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি খাতের সমস্যা সমাধান, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্বাধীনভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের ক্ষেত্রে কঠোরতা আর সরকারি দলের ক্ষেত্রে নমনীয়তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে মামুনুল হক বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা করে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করছে। গণভোটের রায় কার্যকর হলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও প্রশাসনের দলীয়করণ রোধের পথ তৈরি হবে। তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ বলেন, জুলাই বিপ্লবে জীবন দেওয়া ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করে ন্যায়বিচার ও জনস্বার্থের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী ও মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী, অভিভাবক পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুস সুবহান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন ও মাওলানা আব্দুল আজিজ, মাওলানা তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজি, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা সামিউর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু ও মাওলানা আতাউর রহমান, সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসেন এবং কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা এহসানুল হক বক্তব্য দেন।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এনএ