পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া অবৈধ বা কর ফাঁকি দিয়ে আনা হ্যান্ডসেটগুলো শনাক্ত ও বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী আশ্বস্ত করেছেন যে, বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা অনুমোদিত বা অননুমোদিত কোনো হ্যান্ডসেটই এখনই বন্ধ করা হবে না। এছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা যেসব অবিক্রীত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই তালিকা ইতোমধ্যে বিটিআরসিতে জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও সচল থাকবে। মূলত নতুন করে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া অবৈধ ফোনের ক্ষেত্রেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীরা তাদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি আরও দুটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। এসব হ্যান্ডসেট এনইআইআর-এ নিবন্ধনের জন্য তারা তিন মাস সময় পাবেন। এই সময় পর্যন্ত ফোনগুলো সচল থাকবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বা ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র ব্যবহার করা যাবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জানিয়েছেন, এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে শুরুর বিষয়টি একটি শর্তের ওপর নির্ভর করছে। যদি আজ উপদেষ্টা পরিষদ হ্যান্ডসেট আমদানি ও উৎপাদন শুল্ক কমানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই এই কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রতিবাদে বিক্রেতাদের বিক্ষোভের মুখে এই প্রক্রিয়া তিন মাসের জন্য স্থগিত করার কথা শোনা গেলেও বিটিআরসি জানিয়েছে তারা এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি।
মোবাইল ফোনের চোরাচালান রোধ, চুরি হওয়া ফোন উদ্ধার এবং মোবাইল বাজারের বিশৃঙ্খলা কমাতেই এই প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। এটি মূলত একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস যেখানে হ্যান্ডসেটের আইএমইআই (IMEI) নম্বরের সাথে গ্রাহকের সিম ও আইএমএসআই (IMSI) যাচাই করা হয়।
বিটিআরসি স্পষ্ট করেছে যে, এনইআইআর কোনো গ্রাহকের ব্যক্তিগত কল রেকর্ড, মেসেজ বা ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে না। তবে এটি ডিভাইস ও সিমকে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত করার কারণে ভবিষ্যতে নজরদারির সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আজকের এই উদ্যোগের ফলে দেশের বৈধ মোবাইল আমদানিকারক ও স্থানীয় উৎপাদনকারীরা লাভবান হবেন এবং সরকারের রাজস্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি এড়াতে বিটিআরসি কতটা নমনীয় থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মানবকন্ঠ/আরআই




Comments