Image description

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর হলফনামায় উঠে এসেছে তাঁদের অর্জিত সম্পদ ও আয়ের নানা তথ্য। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ও গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলাম তুলি নিজেকে ‘গৃহিণী’ উল্লেখ করলেও তাঁর সোয়া দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আইনজীবী মীর আহমাদ বিন কাসেমের সম্পদ রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকার।

হলফনামা অনুযায়ী, সানজিদা ইসলাম তুলির শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি (টেক্সটাইল)। বর্তমানে নিজেকে গৃহিণী বললেও তিনি আগে বেসরকারি চাকরি করতেন। বার্ষিক আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে তিনি সঞ্চয়পত্র থেকে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা আয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর ওপর নির্ভরশীল তাঁর স্বামীর বার্ষিক আয় ৮২ লাখ ৯৯ হাজার ৫২০ টাকা।

তুলির স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে তাঁর নিজের নামে নগদ রয়েছে ৮৩ লাখ ৩১ হাজার ৬৬২ টাকা এবং স্বামীর কাছে আছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪১ টাকা। এছাড়া একটি অ্যাপার্টমেন্ট ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে তাঁর। নিজের এবং স্বামীর ১০ ভরি করে মোট ২০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে এই প্রার্থীর। পিবিআইয়ের তদন্তাধীন দণ্ডবিধির ২৯৫-এ ধারায় তাঁর নামে একটি মামলা রয়েছে। তাঁর কোনো ব্যাংক ঋণ নেই।

ঢাকা-১৪ আসনের আরেক আলোচিত প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম। তিনি যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া মীর কাসেম আলীর ছেলে। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি ‘বার অ্যাট ল’ এবং পেশায় সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। পেশা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ১১ লাখ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৮৯ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮৫ টাকা। তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর কাছে নগদ আছে ১৪ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। মীর আহমাদ বিন কাসেমের নিজের নামে কোনো জমি বা বাড়ি না থাকলেও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। তাঁর নিজের ২০ ভরি ও স্ত্রীর ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই এবং তিনিও কোনো ব্যাংক ঋণে দায়বদ্ধ নন।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া এই দুই প্রার্থীর হলফনামা এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মূলত ঢাকা-১৪ আসনের এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান ভোটারদের মাঝে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

মানবকন্ঠ/আরআই