Image description

সিলেট টাইটানসের উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরীর মানহানিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সব ধরনের কার্যক্রম বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রেস বক্সে আয়োজিত এক জরুরি সভায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফাহিম আল চৌধুরী তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত সিলেট টাইটানসের কোনো ম্যাচ, অনুশীলন কিংবা সংবাদ সম্মেলন কাভার করবেন না গণমাধ্যমকর্মীরা।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ফাহিম আল চৌধুরী লেখেন, “অন্তত আমি তো কিছু ভিউ ব্যবসায়ীকে দু’মুঠো ভাত জোটানোর সুযোগ করে দিয়েছি! ওদের একটাই চাকরি, নেগেটিভ কথা ছড়িয়ে ভিউ কামানো, কারণ পজিটিভ করলে তো পেটই চলবে না! নেগেটিভ ভিউ হোক আর পজিটিভ কাজ হোক, পেট যেন ভরা থাকে!”

সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব নিয়ে এমন অবমাননাকর ও ‘পেট’ নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বিপিএল কাভার করতে আসা গণমাধ্যমকর্মীরা।

এর আগেও বিপিএল নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছিলেন এই উপদেষ্টা। তিনি বলেছিলেন, “বিপিএলকে গোনার টাইম নেই, আইপিএল নিয়ে ভাবেন।” সেই সময় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে তিনি দাবি করেছিলেন যে, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তবে এবার সরাসরি সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ‘দু-মুঠো ভাত’ দেওয়া নিয়ে মন্তব্য করায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কর্মরত সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের সম্মান নিয়ে এমন নোংরা মন্তব্যের পর চুপ থাকা সম্ভব নয়। তাঁরা আল্টিমেটাম দিয়েছেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফাহিম আল চৌধুরীকে তাঁর বক্তব্যের জন্য জনসমক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত সিলেট টাইটানস এবং বিপিএলের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বয়কট অব্যাহত থাকবে।

ক্রীড়া সাংবাদিকদের এই অনড় অবস্থানের ফলে বিপিএলের সিলেট পর্বের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত সিলেট টাইটানস কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মানবকন্ঠ/আরআই