Image description

হলফনামায় দেওয়া মামলার তথ্য সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এই ঘোষণা দেন। এর আগে দুপুরে তথ্য পর্যালোচনার জন্য তাঁর প্রার্থিতা এক ঘণ্টা স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় দফার শুনানিতে নথিপত্রের ঘাটতি থাকায় তা বাতিল করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হামিদুর রহমান আজাদ তাঁর হলফনামায় নিজের বিরুদ্ধে মোট ৭২টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেন। এর মধ্যে ৭০টি মামলায় তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন কিংবা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। যার একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা (বর্তমানে উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত)।

মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে দ্বিতীয় মামলাটি নিয়ে, যা একটি আদালত অবমাননার মামলা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ দায়ের হওয়া এই মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় এই মামলার বর্তমান অবস্থা সংক্রান্ত উপযুক্ত নথিপত্র দাখিল করতে না পারায় তাঁর মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, তারা আইনি প্রক্রিয়া মেনেই নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন। যথাযথ প্রমাণাদি জমা দিলে হামিদুর রহমান আজাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে তারা পুরোপুরি আশাবাদী। তাদের মতে, এটি একটি পদ্ধতিগত ত্রুটি মাত্র, যা আপিলের মাধ্যমে সংশোধনযোগ্য।

মানবকন্ঠ/আরআই