Image description

ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। রাজধানী তেহরান ছাড়া আরও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নেমেছেন। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইস্পাহান, ইয়াজদ ও জানজান শহরে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তীব্র বিক্ষোভে এরই মধ্যে দেশটিতে ৬ জন নিহত হয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামাকে ভয়ের বলছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ইরানের সরকার কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছে, তবুও সামাজিক মাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই প্রতিবাদগুলো বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পাচ্ছে, যা দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গভীর অসন্তোষের প্রতিফলন।

ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণহীন ঊর্ধ্বগতি দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র করে তুলেছে। প্রতিবাদে গত রোববার তেহরানে দোকানিরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা পঞ্চম দিন ওই বিক্ষোভ চলছে। তেহরান ছাড়া আরও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার তেহরানে শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নামেন।

বুধবার তেহরানে ব্যবসায়ীদের এক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানে এ অস্থিরতার পেছনে বিদেশি হস্তক্ষেপ থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে দেশের শত্রুরা বাইরে থেকে চাপ প্রয়োগের প্রয়াস চালাচ্ছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের ভেতর থেকেও। সমন্বয় ও সহায়তার পরিবর্তে কখনো কখনো কিছু অবস্থান ও কর্মকাণ্ড দেশকে দুর্বল করে এবং ক্ষতি ডেকে আনে।’

বর্তমানে ইরানে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানির খরচ বেড়ে গেছে, এতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গিয়ে নাগরিকদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যা গুরুতর, তবে এটাই একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। দেশটিতে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট চলছে, তেহরানসহ অন্যান্য বড় শহরের জন্য পানি সরবরাহকারী বেশিরভাগ বাঁধও তীব্র পানির সংকটে রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর