Image description

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীর মধ্যে তুমুল বিবাদ ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে এনসিপি প্রার্থী আকতার হোসেনের চিৎকার-চেঁচামেচিতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে রংপুরের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক এনামুল আহসানের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলাকালে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রংপুর-৪ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়। বিকেল ৪টার দিকে এনসিপি প্রার্থী ও দলের সদস্য সচিব আকতার হোসেনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। এর পরপরই জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমানের মনোনয়নপত্রটিও বৈধ ঘোষণা করা হয়।

মাহবুবার রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার সাথে সাথে তার সমর্থকরা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে চিৎকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এনসিপি প্রার্থী আকতার হোসেন। তিনি আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে লক্ষ্য করে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ এবং ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মাইক হাতে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘জাতীয় পার্টি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর, তাদের কীভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে?’ এসময় উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “এখানে কেউ চিৎকার করবেন না; সবাই শান্ত হয়ে বসুন। নির্বাচনী আচরণবিধি কেউ ভঙ্গ করবেন না। দয়া করে রিটার্নিং অফিসারকে তার দায়িত্ব পালন করতে দিন।” জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে পুনরায় প্রক্রিয়া শুরু হয়।

মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে কক্ষের বাইরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এনসিপি প্রার্থী আকতার হোসেন বলেন, “’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আমরা রক্ত দিয়েছি। আমরা শুরু থেকেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, এদের যেন নির্বাচনে সুযোগ দেওয়া না হয়।”

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে রংপুরে জাতীয় পার্টির কী ভূমিকা ছিল, তা আপনারা সাংবাদিকরাই ভালো জানেন। আন্দোলনে আমাদের সরাসরি অংশগ্রহণের ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। আমরা নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।”

রংপুর-৪ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর আগে সকালে রংপুর-৩ আসনের যাচাই-বাছাইয়ে ৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

মানবকণ্ঠ/ডিআর