কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় অবৈধ ড্রেজিং ও বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দিনব্যাপী পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ১১টি ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ৪ হাজার ফুট প্লাস্টিক পাইপ জব্দ ও অপসারণ করা হয়েছে। একই সাথে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে এক দোকানিকে জরিমানা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার উপজেলার পূর্ব ধৈইর পূর্ব ইউনিয়নের এলখাল, আন্দিকোট ইউনিয়নের বারেশ্বর এবং কোরবানপুর এলাকায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন করছে, যা পরিবেশ ও কৃষিজমির জন্য মারাত্মক হুমকি। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ১১টি ড্রেজার মেশিন ও বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক পাইপ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
একই দিনে কোরবানপুর বাজারে পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, একটি মিষ্টির দোকানে প্যাকেটে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে প্রায় ১৭০ গ্রাম অতিরিক্ত ওজন দিয়ে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছিল। এই অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে সংশ্লিষ্ট দোকানিকে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, "অবৈধ ড্রেজিংয়ের ফলে কৃষিজমি ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। ফসলি জমি রক্ষায় এবং এসব অনিয়ম বন্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে আরও জোরদার করা হবে।"
প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকরা। তারা অবৈধ ড্রেজিংসহ সব ধরনের জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments