ইরানে ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। ইরানের একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, বিক্ষোভে ১৪ জন নিরাপত্তাকর্মীসহ এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা শতাধিক।
এ ছাড়া আটক করা হয়েছে ২ হাজার ৩০০ জনকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনসম্পত্তি রক্ষা ও বিক্ষোভ দমনে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
টানা ১৩তম দিনে গড়িয়েছে এই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। তবে গত দুই দিনে আন্দোলন সবচেয়ে সহিংস রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে তেহরানের একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পূর্ববর্তী সময়ের পতাকা উড়িয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।
এই অবস্থায় মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সতর্কবার্তা দিয়ে নাগরিকদের বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছে ইরান সরকার। অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের বিক্ষোভে না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বলা হচ্ছে, তারা ‘সন্ত্রাসী’ হামলার শিকার হতে পারে।
এদিকে, ইরানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সহিংস ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়ার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে তেহরান। অন্যদিকে, বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ।
চলমান বিক্ষোভ দমনে কঠোর শক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এভাবে চলতে দেওয়া হবে না।
মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্যের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২-২৩ সালের ‘উইমেন, লাইফ, ফ্রিডম’ আন্দোলনের রেশও এই বিক্ষোভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর বর্তমান শাসনব্যবস্থা এবারই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।




Comments