Image description

ঢাকার ধামরাইয়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে বেশি দামেও মিলছে গ্যাস। হাহাকার বাসাবাড়িতে রান্নায়। এক বোতল গ্যাসের জন্য কয়েকটি বাজারে, দোকানে দোকানে ধন্যা দিয়েও কাজ হচ্ছে না। কাটছে না গ্যাসের সংকট। হঠাৎ করেই ঘোষণা ছাড়াই বাজারে এমন তরলীকৃত গ্যাসের সংকট দেখা যায়। 

জানা যায়, হঠাৎ করে এলপিজি গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এ উপজেলার শত শত সাধারণ মানুষ ও খাবারের হোটেল ব্যবসায়ীরা।

বিশেষ করে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরবরাহ সংকট এখন চরমে। গত দুই সপ্তাহ ধরে বাড়তি টাকা দিয়েও গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করতে পারছেন না। 

জানা যায়, শীতের সময়ে বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায় এবং দামও কিছুটা বাড়ে। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে এলপিজি আমদানির জাহাজসংকট। শীতে লাইনের গ্যাসেরও সংকট হয় সিলিন্ডার বোতলের চাহিদা বেড়ে যায়। রাজধানীর সহ সারা দেশে একই অবস্থা বিরাজ করছে । বিইআরসি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না—সেটা তদারকি না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ সংকটের কারণেই মূলত বাজারে এমন সংকট তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে বাজারে বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ সব সময়ই ছিল।

কাউয়ালীপাড়া এলাকার খাবারের হোটেলের মালিক সন্জয় সরকার বলেন, হঠাৎ করে বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার নাই। অনেক দোকান ঘুরে ফেরত এসেছি। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে লাকরি দিয়ে কোন রকম রান্নার কাজ করছি। শুধু আমি না গ্যাস সিলিন্ডার খুঁজে ফেরত যাচ্ছেন অনেক চায়ের দোকানি, খাবার হোটেলের দোকানদারসহ বাসা বাড়ির লোকজনগনও। 

রুবেল আহমেদ, শামীম নামে একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের কাছে কোন কোম্পানি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করছে না। তাই গ্রাহককে দিতে পারছি না। কেন হঠাৎ করে এমন গ্যাস সিলিন্ডার সংকট আমরা জানি না।

বকুল নামে এক বাড়িওয়ালা বলেন, আমার বাসায় কিছু লাইন গ্যাস রয়েছে। বাকি ভাড়াটিয়ারা সিলিন্ডার গ্যাস না পাওয়ায় এখন ছাঁদের উপর লাকরি দিয়ে রান্না করছে।

আরো জানা যায়, খুচরা বাজারে সিলিন্ডারের দাম সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ২ শত ৫৩ টাকা। হঠাৎ করে বেড়ে ১৮ শত থেকে  ২ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এরপরও  বর্তমানে কোন দোকানে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া লাইনের গ্যাস এর বাসাগুলোতে  গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে।

ধামরাইয়ের খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিলারদের কাছ থেকেই সরবরাহ পাচ্ছি না ঠিক মত, তাই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। 

সিরাজুল হক বলেন, আমি বাড়ি করার পর লাইনে গ্যাস না পেয়ে পুরো বাড়িতে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আজকে রবিবার আশেপাশে দোকানগুলোতে ঘুরে আসলাম কোথাও গ্যাসের বোতল নেই। সকালে হোটেল থেকে রুটি নিয়ে এসেছি। সেখানেও ভীড়। সকল ভাড়াটিয়া নিয়ে খুবই সমস্যার ভিতরে আছি।  

ধামরাই প্রেসক্লাবের পশ্চিম পাশে চায়ের দোকানদার কবির হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকান করে সংসার চালাই। সিলিন্ডার গ্যাসের মাধ্যমে চায়ের পানি গরম করি। এখন ১৮০০ টাকায়ও পাওয়া যায় না। সকালে কয়েক জায়গায়  ঘুরেও আসলাম কোথাও সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল পেলাম না। 

পৌরসভার ইসলামপুর এলাকার গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলার হারুনর রশিদ বলেন, আমরা কয়েক দিন ধরে কোন কোম্পানির গ্যাসের বোতল পাচ্ছি না।  কি কারনে এমন সমস্যা তা বলতে পারবো না।

এভাবে তরলীকৃত গ্যাসের সংকট চললে ব্যবসা ক্ষেত্রে যেমন প্রভাব পড়বে তেমনি লাইনের গ্যাস যাদের না আছে ঔই সব বাসাবাড়ির লোকজন রান্নার জন্য আরো বেশি সংকটে পড়বে।