শরীয়তপুরের আলোচিত ছয় বছরের শিশু হৃদয় খান নিবিড়কে অপহরণ ও নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে দুই যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় এক কিশোর অপরাধীকে ২১ বছরের সশ্রম আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাকিল হোসেন গাজী (১৯) ও সিয়াম হোসেন (২০)। সাজাপ্রাপ্ত অন্যজন এক কিশোর (১৬)। দণ্ডের পাশাপাশি আদালত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও এলাকা থেকে শিশু হৃদয় খান নিবিড়কে অপহরণ করা হয়। সে স্থানীয় শিশুকানন কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী এবং মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল।
ঘটনার দিন স্কুল থেকে ফিরে খেলতে বের হওয়ার পর নিবিড় আর বাড়িতে ফেরেনি। সন্ধ্যার দিকে অপহরণকারীরা নিবিড়ের মায়ের মোবাইলে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে অপহরণকারীরা শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখে। নিখোঁজের পরদিন নিবিড়ের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দীর্ঘ আড়াই বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা মনির খান। তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমার অবুঝ একমাত্র সন্তানকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার বিচার পেয়েছি। দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডে আমি সন্তুষ্ট। তবে একজনের ২১ বছরের সাজা নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে আপিলের বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করব। আমাদের একটাই দাবি আসামিদের ফাঁসি যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।”
এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। এলাকাবাসীও এই রায়কে দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments