খুলনার পাইকগাছা পৌর সদরের ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা পার্কের জমি দখল করে নির্মিত উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টি উচ্চ আদালতের নির্দেশে ভেঙে ফেলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে দিনভর বুলডোজার ও বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের সহায়তায় দ্বিতল ভবনটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াজিউজ্জামান চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বী এবং পাইকগাছা থানার ওসি (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার পাইকগাছা পৌর সদরের প্রাণকেন্দ্রে খুলনা জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জমিতে ১৯৮০ সালে মধুমিতা পার্ক স্থাপিত হয়। পার্কের পুকুরের পানি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা সুপেয় পানি হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। ২০০৪ সালে পার্কের জমিতে অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ শুরু হলে পরিবেশ ও পার্ক রক্ষায় ২০০৫ সালে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং-৩৫৯০/০৫) দায়ের করে ‘পার্ক সংরক্ষণ কমিটি’।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত অবৈধ নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০২২ সালে একটি কনটেম্পট পিটিশন (নং-১০২/২২) দায়ের করা হয়। কয়েক দফা শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০ দিনের মধ্যে পার্কের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের চূড়ান্ত নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের মে মাসে পার্কের ৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টি থেকে গিয়েছিল। ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত অ্যাডভোকেট শেখ মো. নূরুল হক এবং পরবর্তীতে এর সম্প্রসারণ করেন সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীরা ভবনটিতে অগ্নিসংযোগ করলে এটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
অবশেষে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে মঙ্গলবার পরিত্যক্ত এই ভবনটি সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হলো। উচ্ছেদ অভিযানের সময় আশপাশে ব্যাপক কৌতূহলী জনতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
অভিযান শেষে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হাসান সাংবাদিকদের জানান, “উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পার্কের জমি দখলমুক্ত করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments