Image description

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসকের চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ১২ বছরের এক শিশু চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জীবন বাঁচাতে গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে শিশুটির একটি পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। ভুক্তভোগী মারিয়া খাতুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দিগড়ী ইসলামপুর এলাকার মোফাজ্জেল হোসেনের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় ঘন কুয়াশার মধ্যে অটোরিকশা ও পাখিভ্যানের সংঘর্ষে মারিয়া গুরুতর আহত হয়। তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সে চিকিৎসাধীন ছিল।

মারিয়ার দাদা ইউসুফ আলীর অভিযোগ, ভর্তির পর চিকিৎসকরা আঘাতের গুরুত্ব বুঝতে ব্যর্থ হন। দীর্ঘ তিন দিন তাকে যথাযথ চিকিৎসা বা ড্রেসিং না করে কেবল ‘পর্যবেক্ষণে’ রাখা হয়। এতে তার পায়ের ক্ষতে পচন ধরতে শুরু করে এবং রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়। অবস্থার অবনতি দেখে ৯ জানুয়ারি তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয়।

সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, রোগীকে অনেক দেরিতে আনা হয়েছে। পায়ের সংক্রমণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছানোয় জীবন বাঁচাতে ১৩ জানুয়ারি চিকিৎসকরা তার পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মারিয়ার স্বজন ও এলাকাবাসী চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এসে বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অপসারণের দাবিতে সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। 

স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের ডিউটি ফেলে ডা. আব্দুর রহমান ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী দেখা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন, যার মাসুল দিতে হলো ১২ বছরের এই শিশুকে।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. আব্দুর রহমান বলেন, "মারিয়ার ক্ষেত্রে 'ওপেন ফ্র্যাকচার টিবিয়া-ফিবুলা' (হাড় ভেঙে বের হওয়া) সমস্যা ছিল। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। তবে তিন দিনেও আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় আমরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করি।"

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত এজাহার জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে মারিয়া ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একটি সুস্থ শিশুর এমন পঙ্গুত্ব বরণের ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর