Image description

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ধান শুকানোর কাজে ব্যবহৃত শতাধিক চাতালে আইন অমান্য করে জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে তৈরি পোশাক কারখানার বর্জ্য বা ‘ঝুট’। এতে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ায় বিষাক্ত হয়ে উঠছে জনপদ। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়লেও প্রভাবশালী চাতাল মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের শিথিলতাকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, উৎপাদন খরচ কমাতে চাতাল মালিকরা কাঠ বা তুষের পরিবর্তে দাহ্য ঝুট ব্যবহার করছেন। ঝুট পোড়ানোর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ নানা বিষাক্ত রাসায়নিক বাতাসকে ভারী করে তুলছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে থাকে। এতে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি এবং ঘরবাড়িতে বসবাসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ধোঁয়ার কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা ও কাশির প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক সময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও ধোঁয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।

চান্দাইকোনা গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ সরকার বলেন, “ঝুট পোড়ানোর ধোঁয়ায় এলাকায় নিঃশ্বাস নেওয়া দায় হয়ে পড়েছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রতিনিয়ত অসুস্থ হচ্ছে। আমরা বারবার প্রশাসনকে জানালেও তারা এসে জরিমানা করে চলে যায়, কিন্তু ঝুট পোড়ানো বন্ধ হয় না।”

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “চাতালে জ্বালানি হিসেবে ঝুট ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। যারা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অবৈধভাবে পরিচালিত চাতালগুলো সিলগালা করে দেওয়া হবে।”

সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম জানান, ঝুট পোড়ানো পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এর ফলে বাতাসে অতি সূক্ষ্ম কণা ছড়িয়ে পড়ে যা ফুসফুসের ক্যানসার পর্যন্ত ঘটাতে পারে। তিনি দ্রুতই উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনার আশ্বাস দেন।

রায়গঞ্জের সাধারণ মানুষের দাবি, লোক দেখানো অভিযান নয় বরং পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই বিষাক্ত ঝুট পোড়ানো স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

মানবকণ্ঠ/ডিআর