গাইবান্ধায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩ জনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিন ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার তুলসীঘাট পল্লীবিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন কাশদহ এলাকার একটি ইটের ভাটার পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন- গাইবান্ধা সদর উপজেলার মৃত ভুট্টু মিয়ার ছেলে মো. নাজমুল হক, সাদুল্লাপুর উপজেলার মো. আসাদুল ব্যাপারীর ছেলে মো. বাপ্পি ব্যাপারী এবং পলাশবাড়ী উপজেলার মো. গাবুর আলীর ছেলে মো. এরশাদ মিয়া (২৭)।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মুরারীপুর এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি পিকনিক শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটের দিকে কাশদহ প্রথম ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে তারা ৬-৭ জন ব্যক্তিকে মুখে মাস্ক ও মাফলার পেঁচানো অবস্থায় সন্দেহজনকভাবে বসে থাকতে দেখেন। তাদের গতিবিধি দেখে ডাকাত দল বলে সন্দেহ হলে তারা দ্রুত আশপাশের লোকজনকে খবর দেন।
মুহূর্তের মধ্যেই গ্রামের শতাধিক মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ডাকাতদের চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে। এ সময় পালানোর চেষ্টাকালে তিনজনকে একটি মোটরসাইকেল ও দেশীয় অস্ত্রসহ ধরে ফেলে উত্তেজিত জনতা। পরে তাদের গণপিটুনি দিয়ে পার্শ্ববর্তী এক ব্যবসায়ীর দোকানে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জনরোষ থেকে আসামিদের উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, আটককৃতদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে রাতেই গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। তবে তাদের সাথে থাকা আরও ৩-৪ জন সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments