ছোট্ট সোনালী-বাদামী রঙের কিশমিশ আমরা সাধারণত পায়েস, পোলাও বা মিষ্টি খাবারে স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার করি। কিন্তু আপনি কি জানেন, শুকনো আঙুর বা এই কিশমিশ কেবল স্বাদের জন্যই নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী? পুষ্টিবিদদের মতে, কিশমিশ হলো প্রাকৃতিক পুষ্টির এক 'পাওয়ার হাউস'। নিয়মিত কিশমিশ খাওয়ার কিছু চমকপ্রদ উপকারিতা নিয়ে আজকের আয়োজন।
হজমশক্তি উন্নত করে
কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে। এটি পাকস্থলীর হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত পেটের সমস্যায় ভোগেন, তারা প্রতিদিন কিশমিশ ভেজানো পানি বা কিশমিশ খেলে উপকার পেতে পারেন।
রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দূর করে
কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং কপার রয়েছে, যা রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। নিয়মিত কিশমিশ খেলে শরীরের লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পায়, যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।
হাড় মজবুত করে
কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং বোরন। ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত করার জন্য অপরিহার্য, আর বোরন হাড়ের গঠন এবং ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। বয়সের কারণে হওয়া হাড়ের ক্ষয় বা অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধে কিশমিশ দারুণ কাজ করে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
কিশমিশে থাকা পটাশিয়াম শরীরের সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কিশমিশে প্রচুর ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
দাঁত ও চোখের সুরক্ষা
কিশমিশে থাকা 'ওলিনোলিক অ্যাসিড' দাঁতের ক্ষয় রোধ করে এবং মাড়িকে সুস্থ রাখে। পাশাপাশি এতে থাকা বিটা ক্যারোটিন এবং ভিটামিন-এ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং চোখের ছানি পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
দ্রুত শক্তি জোগায়
কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি (গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ) থাকে। যারা ব্যায়াম করেন বা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন, তাদের জন্য কিশমিশ তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান দেয়। এটি ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরকে চনমনে রাখতে সাহায্য করে।
কিশমিশ খাওয়ার সঠিক নিয়ম
পুষ্টিবিদদের মতে, শুকনো কিশমিশ খাওয়ার চেয়ে ভিজিয়ে রাখা কিশমিশ খাওয়া বেশি উপকারী।
-
রাতে এক গ্লাস পানিতে ৮-১০টি কিশমিশ ভিজিয়ে রাখুন।
-
পরদিন সকালে খালি পেটে কিশমিশগুলো খেয়ে নিন এবং কিশমিশ ভেজানো পানিটুকু পান করুন। এতে কিশমিশের পুষ্টিগুণ শরীর দ্রুত শোষণ করতে পারে।
সতর্কতা
কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে চিনি ও ক্যালোরি থাকে। তাই যারা ডায়াবেটিস রোগী বা ওজন কমাতে চাচ্ছেন, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরিমিত পরিমাণে কিশমিশ গ্রহণ করুন।
স্বল্পমূল্যে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাব পূরণ করতে কিশমিশের জুড়ি নেই। সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবন পেতে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অল্প পরিমাণ কিশমিশ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তবে মনে রাখবেন, যেকোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই পরিমিত বোধ বজায় রাখা জরুরি।
Comments