Image description

মুন্সীগঞ্জে ভাড়াটিয়া বাসায় মা ও মেয়েকে খুণের ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় মামলা হয়েছে। নিহত আমেনা বেগম এর মা বাদী হয়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারী) রাতে সিরাজদিখান থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় নিহত আমেনার স্বামী মিজান মিয়াকে বরিশাল  থেকে আটক করেছে পুলিশ।

এদিকে  মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডি। ঢাকার সিআইডি ইন্সপেক্টর মো. সাইদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহত দুইজনেরই মাথায় আঘাত এবং আঘাতটা ভারি কিছু দিয়ে। তবে চাকু বা ধারালো কিছু নয়। জবাই করা বা কুপিয়ে হত্যার তথ্য সঠিক নয়। ভারি ভোতা অস্ত্র যেমন- কাঠ বা ভারি লোহাও হতে পারে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরো বলেন, আমরা আলামত সংগ্রহ করে স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা তারাই নিবে।

এদিকে নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত আমেনা বেগম স্থানীয় বাসাবাড়িতে গৃহশ্রমিকের কাজ করতেন। তার স্বামী মিজান মিয়া পৈত্রিক সূত্রে বরিশালে দিনমজুরের কাজ করেন। সোমবার  স্বামী বরিশাল হতে ভাড়াটিয়া বাড়িতেও এসেছিলেন। এরপর বাজার করে দিয়ে ফিরে যান।

এ ব্যাপারে সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বলেন, মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় মামলা হয়েছে। নিহত আমেনা বেগম এর মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে এ মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় আমেনার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাকে থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, ভুক্তভোগীদের ঘর থেকে একটি রক্তাক্ত ভারি কাঠের ডাসা উদ্ধার হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত এ ঘটনায় জড়িত যে বা যারা তাদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। আমরা গুরুত্বের সাথেই কাজ করছি।

উল্লেখ্য; মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর গ্রামের নুরুজ্জামান সরকারের ভাড়াটিয়া বসতঘরের মেঝেতে সোমবার দুপুরে স্থাণীয়দের কাছে খবর পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মা আমেনা বেগম (৩৫) ও মেয়ে মরিয়ম আক্তারের (৮) মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ।

আমেনা বেগমের স্বামীর নাম মিজান মিয়া। সে পেশায় দিনমজুর। তারা ওই গ্রামের নুরুজ্জামান সরকারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। ঘটনার ৪ মাস আগে আমেনা বেগম ও তাঁর পরিবার ওই এলাকায়  বাসা ভাড়া নেন। সোমবার সকালে ওই বাড়িতে কারো সারাশব্দ না পেয়ে স্থানীয়রা বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করেন। সাড়া না পেয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে ভেতরে মা ও মেয়ের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশ খবর দেন। খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে অধিকতর তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ র‌্যাব ও সিআইডির কর্মকর্তারা। বিকালে মরদেহ উদ্ধার করে প্রেরণ করা হয় মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে।