Image description

ঢাকার সাভারে গত ৭ মাসে ৬টি খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আলোচিত ‘সিরিয়াল কিলার’ মশিউর রহমান সম্রাট ওরফে সবুজ শেখের (২৮) গ্রামের বাড়িতে এখন সুনসান নীরবতা। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলুদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দ্রা গ্রামের এই যুবকের ভয়ংকর অপরাধের কাহিনী শুনে হতবাক এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে সবুজের পৈত্রিক বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ একটি টিন ও কাঠের ঘরে বসবাস করছেন তার বৃদ্ধ বাবা পান্না শেখ ও মা মমতাজ বেগম। লোকলজ্জা আর গণমাধ্যমের ভয়ে বাবা পান্না শেখ দিনের বেলায় এক প্রকার আত্মগোপনে থাকছেন। মা মমতাজ বেগম ব্রেইন টিউমারসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। ছেলের এমন কর্মকাণ্ডের খবর শুনে তিনি আরও ভেঙে পড়েছেন।

আক্ষেপ করে সবুজের মা বলেন, “সবুজ কোনোদিন আমাদের এক টাকা দিয়েও সাহায্য করেনি। সে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে, তার একটি সন্তানও আছে বলে শুনেছি। কিন্তু কোনোদিন তার বউ-বাচ্চাকে আমাদের দেখায়নি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সবুজের বাবা পান্না শেখ দীর্ঘদিন ঢাকার জুরাইন, কেরানীগঞ্জ ও সাভার এলাকায় বসবাস করতেন। প্রায় ১০ বছর আগে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। বর্তমানে ছাগল পালন ও শ্রমিকের কাজ করে তার সংসার চলে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবুজ দ্বিতীয়। অন্য দুই ভাইয়ের একজন রঙ মিস্ত্রি এবং অন্যজন অটোরিকশা চালক।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সবুজ এলাকায় খুব একটা আসত না। তবে যখনই আসত, এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যেত। প্রায় এক বছর আগে সবুজ একটি অটোরিকশা ভাড়া করে এলাকায় আসে এবং চালকের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে সেটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। তখন গ্রামবাসী তাকে ধরে কেরানীগঞ্জের একটি রিহ্যাব সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে ফিরে এসে উল্টো নিজের বাবা ও দুই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল এই ঘাতক।

স্থানীয় অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আবির জানায়, সবুজ মাঝেমধ্যে একা একাই কথা বলত, যাকে অস্বাভাবিক মনে হতো। প্রতিবেশী রাব্বি মিয়া জানান, সবুজের বেড়ে ওঠা ঢাকায় হওয়ায় গ্রামের মানুষের সঙ্গে তার সখ্যতা ছিল না বললেই চলে।

হলদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল খান বলেন, “সবুজের পরিবার দীর্ঘদিন বাইরে ছিল। ইদানীং তার বাবা এখানে বসবাস শুরু করেছেন। সবুজ এলাকায় আসলে চুরি-ছিনতাই হতো, এখন আমরা বুঝতে পারছি কেন এমনটা হতো।”

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে জানান, “সবুজ একজন ‘সাইকো’ প্রকৃতির অপরাধী বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে লৌহজং থানায় তার বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলার রেকর্ড নেই।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর