বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে ভোলায় কোনো চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের থাকতে দেওয়া হবে না। আমার বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জু কোনোদিন আপনাদের সঙ্গে অন্যায় করেননি, আমিও করব না—কথা দিলাম।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলার নতুন বাজার এলাকায় বিজেপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো ভোলা শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
পথসভায় আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘মহান আল্লাহ এবার আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান আমাকে আপনাদের খেদমত করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি হয়তো ভোলাকে সিঙ্গাপুর বানাতে পারব না, তবে ভোলার মানুষ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, সেই ব্যবস্থা করব। কোনো হিংসা-বিদ্বেষ নয়, আমরা বিএনপি-বিজেপি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব।’
অন্যান্য প্রার্থীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তিনি বলেন, ‘হাতপাখা (ইসলামী আন্দোলন) ও দাঁড়িপাল্লা (জামায়াত) সহ যারা ভোলা সদর আসনে লড়ছেন, আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিভেদ নেই। আসুন সবাই মিলে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য ভোলা গড়ি। আগামীতে একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আমরা প্রচারণা চালাব। ভোলার মানুষ যাকে নির্বাচিত করবেন, আমরা তাকেই স্বাগত জানাব।’
বিগত স্বৈরশাসনের আমলের চিত্র তুলে ধরে পার্থ বলেন, ‘২০০৮ সালে বাবার মৃত্যুর পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে পরম মমতায় আগলে নিয়েছিলেন। তখন শেখ হাসিনা সরকার ভোলায় নৈরাজ্য, টেন্ডারবাজি ও দখলের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আমি বিরোধী দলের এমপি হয়েও শেখ হাসিনার চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করেছিলাম। দেশ এখন গণতন্ত্রের পথে হাঁটছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাকে নির্বাচিত করলে ভোলাকে সব ধরনের নৈরাজ্য থেকে মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ। আমরা কারও ওপর অন্যায় করতে চাই না, প্রতিশোধ নিতে চাই না।’
ভোলা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর প্রসজ্ঞে তিনি বলেন, ‘আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর চাচা ১৭ বছর ভোলার বিএনপির জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি আজ ভোলার মাটিতে পা রাখার আগে তাঁর সঙ্গে দেখা করে দোয়া নিয়ে এসেছি। আমি এমপি হতে পারলে তাঁকে মুরুব্বি হিসেবে মাথায় রাখব। আমাদের সবার দায়িত্ব ত্যাগের রাজনীতি করা কর্মীদের বুকে টেনে নেওয়া।’
ভোলাবাসীর জন্য বড় প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা তাকেই ভোট দেবেন, যে আপনাদের জন্য একটি মেডিকেল কলেজ ও ভোলা-বরিশাল সেতু বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং জেলাকে সন্ত্রাসমুক্ত করবে।’
উল্লেখ্য, আজ সকাল থেকেই ব্যারিস্টার পার্থর আগমনকে কেন্দ্র করে ভোলার খেয়াঘাট থেকে শুরু করে অলিগলি ও রাস্তাঘাটে মানুষের ঢল নামে। খেয়াঘাট থেকে তাঁর উকিলপাড়াস্থ বাসভবন ‘শান্তনীড়’ পর্যন্ত পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নেতাকর্মীরা ‘গরুর গাড়ি’ মার্কায় ভোট চেয়ে এবং তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে স্লোগানে মুখর করে তোলেন রাজপথ।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments