Image description

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। চট্টগ্রামের অন্যান্য আসনের তুলনায় এখানে প্রার্থীর সংখ্যা কম হলেও মূল লড়াই এখন ত্রিমুখী। বিশেষ করে জামায়াতের ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত এই আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া সাবেক দুইবারের সাংসদ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। অন্যদিকে, নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়তে চায় বিএনপি।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন হেভিওয়েট প্রার্থী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী লড়ছেন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন ‘ধানের শীষ’ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী শরীফুল আলম চৌধুরী লড়ছেন ‘হাতপাখা’ প্রতীকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২২ জানুয়ারি থেকে প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকা গণমিছিল ও গণসংযোগে মুখর হয়ে উঠেছে। তবে ব্যানার-ফেস্টুন ও প্রচারণায় আইনি বিধিনিষেধ থাকায় প্রার্থীদের কিছুটা কৌশলী হতে হচ্ছে। জামায়াতের দুর্গ হিসেবে খ্যাত এই আসনে শাহজাহান চৌধুরী দিনরাত এক করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জামায়াত কর্মীরা জয়ের বিষয়ে আশাবাদী হলেও জোটের সাবেক মিত্র বিএনপির শক্ত অবস্থান ও আওয়ামী লীগের ভোটারদের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় রয়েছেন।

এদিকে লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাজমুল মোস্তফা আমিনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। দলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ভুলে নেতা-কর্মীরা এবার সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে চান। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শরীফুল আলম চৌধুরীও নীরবে তাঁর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সময় গড়ালে তাঁর অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সমর্থকরা।

নির্বাচনী উত্তাপের পাশাপাশি রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। জামায়াত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় শাহজাহান চৌধুরীর বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং নারী কর্মীদের প্রচারণায় হেনস্তা করা হয়েছে। তাদের আরও দাবি, বিএনপি ভোট কিনতে টাকা ছড়াচ্ছে এবং প্রশাসনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে জামায়াত কর্মীদের ঘরবাড়িতে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, জামায়াত এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং নির্বাচনী কাজে বাধা প্রদান করছে।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও অপরাধমুক্ত রাখতে সাতকানিয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এলাকায় সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং ৪টি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মতামত নিতে বিভিন্ন ইউনিয়নে ‘সেনাবাহিনীর মতামত বক্স’ স্থাপন করা হয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “সাতকানিয়ার নির্বাচনী পরিবেশ পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উপজেলার ৩১টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আমরা সেগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর