দুমকিতে নির্মাণাধীন হাসপাতালের উদ্বোধনী নামফলক অপসারণ: উত্তেজনার পর পিছু হটল কর্তৃপক্ষ
পটুয়াখালীর দুমকিতে স্থানীয় জনতার তীব্র আপত্তির মুখে নির্মাণাধীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের একটি উদ্বোধনী নামফলক সরিয়ে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতের আঁধারে নামফলকটি লাগানো হলেও শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে তা অপসারণ করা হয়।
জানা গেছে, ২০২৪ সালে তৎকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট হারুন অর রশীদ হাওলাদার ভবনটির উদ্বোধন করেছিলেন। শুক্রবার রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্টরা সেই নামফলকটি পুনরায় দেওয়ালে স্থাপন করলে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
শনিবার সকালে খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপি নেতা মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদারের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনের কার্যালয়ে গিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা দ্রুত নামফলকটি অপসারণের দাবি করেন এবং সতর্ক করে বলেন, অবিলম্বে এটি সরানো না হলে বিক্ষুব্ধ জনতা নিজেরাই ব্যবস্থা নেবে।
এ সময় উপস্থিত যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান নান্নু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "২০২৪ সালে হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। এর ঠিকাদার ছিলেন বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা পলাতক। এমন পরিস্থিতিতে রাতের আঁধারে পুরোনো নামফলক লাগানো ষড়যন্ত্রের অংশ।"
উপজেলা বিএনপি নেতা মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, "ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনোভাবেই পুনর্বাসিত হতে দেওয়া হবে না। এখন নির্বাচনী সময় চলছে, ভবিষ্যতে কার নামফলক থাকবে তা সময় এবং জনগণই নির্ধারণ করবে।"
নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে টিএইচএ-র নির্দেশে কর্মচারীরা নামফলকটি দেওয়াল থেকে খুলে ফেলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান বলেন, "নামফলক লাগানোর বিষয়টি মূলত ঠিকাদারের। কে বা কখন এটি লাগিয়েছে তা আমার জানা ছিল না। তবে বিএনপি নেতৃবৃন্দের আপত্তির পর বিশৃঙ্খলা এড়াতে তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments