সন্দ্বীপে নির্বাচনী লড়াই তুঙ্গে: প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা আর ভোটারদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় সরগরম হয়ে উঠেছে দ্বীপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত। তবে প্রচারণার মাঠ গরম থাকলেও প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন প্রার্থীরা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলছে প্রচার-প্রচারণা। সন্দ্বীপ আসনে তিনজন দলীয় প্রার্থী ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাঠে মূলত তিন দলের প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলাকে এখন পর্যন্ত প্রচারণায় দেখা যায়নি এবং সাধারণ ভোটারদের কাছেও তিনি অপরিচিত রয়ে গেছেন।
এখন পর্যন্ত প্রচার ও গণসংযোগে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা। তাঁর নেতা-কর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে সন্দ্বীপের প্রতিটি এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে মোস্তফা কামাল পাশা দৈনিক মানবকণ্ঠকে বলেন, “জনগণ আমাদের সাথে আছে। তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। সন্দ্বীপের প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিদের প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চেয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলাউদ্দিন সিকদারও জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ভোটারদের দোয়া ও ভোট চাচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সন্দ্বীপের মানুষ পরিবর্তন চায়। কিন্তু সুষ্ঠু ভোট বাধাগ্রস্ত করতে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ মহলের পছন্দের অফিসার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন স্থানে আমাদের নারী ভোটারদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা মৌখিকভাবে প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমজাদ হোসেনও তাঁর কর্মীদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি বলেন, “আমরা সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তবে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের যে খবর শোনা যাচ্ছে, তা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। যদি নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়, তবে আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত।”
অভিযোগের বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “আমরা মৌখিকভাবে দু-একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুংচিংনু মারমার সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি মোবাইলে মেসেজ দিলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
তফসিল অনুযায়ী প্রচারণার সময়সীমা এবং আচরণবিধি মেনে প্রার্থীরা তাঁদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ সন্দ্বীপবাসীর।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments