Image description

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার শিকার শিশু শিক্ষার্থী মারিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। 

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ্ নূরজাহান আক্তার সাথী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামে নিহতের বাড়িতে যান।

পরিদর্শনকালে ইউএনও নিহতের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি মারিয়ার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের সেই পরিত্যক্ত ঘরটিও পরিদর্শন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ ও যদুনাথপুর ইউনিয়নের প্রশাসক রাসেল পারভেজ তমাল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শওকত হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুবোধ মন্ডল, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যবৃন্দ।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় পরিবারটিকে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতে সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়।

নিহত মারিয়ার বাবা উজ্জ্বল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "দুনিয়ার ভালো-মন্দ বোঝার আগেই আমার সন্তানকে হায়েনাদের হাতে প্রাণ দিতে হলো। আমি এই খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।" এদিকে, এমন মর্মান্তিক ঘটনার পরও স্কুলের কোনো শিক্ষক খোঁজ নিতে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু মারিয়া। নিখোঁজের ছয় দিন পর রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেশী একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতরে স্টিলের বক্স থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিক জানান, এ ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে এ পর্যন্ত ৫ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর