Image description

দীর্ঘ দেড় বছরের অধিক সময় আগে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন নেতাকর্মীরা।

রোববার বিকালে তারা যশোর লোহার রোডের কার্যালয়ে নীচতলার কলাপসিবল গেটের তালা খুলে দুইতলায় গিয়ে প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং পরে শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। তবে পুষ্পমাল্য অর্পণের ৩ ঘণ্টা পর ফের কার্যালয়টিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৭/৮ জন নেতাকর্মী নগরীর শহিদ হাদিস পার্ক সংলগ্ন (শঙ্ক মার্কেট) মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে যান। এ সময় তারা নিচের মেইনগেটের তালা খুলে দোতলায় যান। সেখানে তারা প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং পরে শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে মাল্য অর্পণ করেন।

নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত জাহাঙ্গীর হোসেন নামের একজন নিজেকে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সকলেরই আছে। আমরা নতুন সরকারকে বলতে চাই- আমরা সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে চাই। আশা করি আমাদের রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পাব।

এদিকে, আওয়ামী লীগ অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং পরে শেখ মুজিবুর রহমান ও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে পালিয়ে যাওয়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করার ৩ ঘণ্টা পর বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ধ্বংসপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ অফিসটিতে ফের আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে।

এ বিষয় খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবীর হোসেন বলেন, বিকালে হঠাৎ করে ৭/৮ জন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অফিস খুলেছিল। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর আওয়ামী লীগ অফিস খোলার প্রতিবাদে কথিত রেড জুলাই নামের ৭-৮ জন ছাত্র আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন দেয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আসার কিছুক্ষণের মধ্যে সেই আগুন নিভে যায়।

নগরীর টুটপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর আওয়ামী লীগ অফিসে সামান্য আগুন দেওয়া হয়েছিল। আমরা দ্রুত সেই আগুন নিভিয়ে ফেলেছি।