Image description

পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর, প্রোটিনের উৎস ব্রয়লার মুরগি এবং বেশ কিছু সবজির দাম কয়েক দফা বেড়েছে। নতুন সরকারের প্রথম দিন থেকেই বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হুঁশিয়ারি থাকলেও ব্যবসায়ীরা তা তোয়াক্কা করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, শুল্কছাড়ের সুবাদে খেজুরের আমদানি খরচ কমলেও বাজারে তা দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। মেডজুল, আজওয়া ও মরিয়ম জাতের খেজুরের আমদানি খরচ শুল্কসহ ৬০০-৬৫০ টাকার মধ্যে হলেও খুচরা বাজারে তা ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ।

নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ভরসা ব্রয়লার মুরগির দাম গত ৪৮ ঘণ্টায় কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকায় ঠেকেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা দরে। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও ব্রয়লারের কেজি ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই দাম বাড়াচ্ছে বলে ভোক্তা-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এছাড়া ছোলার দামও কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়ে ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে লম্বা বেগুনের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে। লেবুর দামও আকাশচুম্বী, প্রতি হালি মাঝারি আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়। তবে বাজারে তরমুজ আসতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও দাম কেজিপ্রতি ৬০-৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে বাপা, ক্যাব ও বিসেফ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন। বক্তারা বলেন, নতুন সরকারের জন্য এই রমজান হবে একটি ‘এসিড টেস্ট’। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। অন্যথায় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

মানবকণ্ঠ/ডিআর