Image description

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে দিনমজুর সেলিম পাইককে (৩২) মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর মামলার মূল আসামি শাহীন মাদবরকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। 

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার লালবাগ এলাকা থেকে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়।

র‍্যাব জানায়, এলিট ফোর্স র‍্যাব অপরাধীদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আপোষহীন অবস্থানে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাদারীপুর র‍্যাব-৮ ও ঢাকা র‍্যাব-১০ এর একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লালবাগের পলাশীর মোড় এলাকা থেকে পলাতক আসামি শাহীনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার ইকরি গ্রামের সেলিম পাইক তার খালার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকরি এলাকার ‘গাউসিয়া’ নামক একটি মাছের প্রজেক্টের কাছে পৌঁছালে শাহীন মাদবরসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে। এসময় তারা সেলিমকে মাছ চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে বেধড়ক মারধর ও পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

আহত সেলিম পাইকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বর্তমানে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সেলিমের মাথায় পাঁচটি সেলাই লেগেছে এবং দুই পায়ের হাড় পিটিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তার বড় বোন মাকছুদা বেগম বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

র‍্যাব-৮ সিপিসি-৩ (মাদারীপুর) ক্যাম্প জানায়, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। র‍্যাব বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং অবশেষে মূল হোতাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারকৃত শাহীন মাদবরকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ডামুড্যা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর