Image description

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চর বাংরাইল এলাকায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে তামাকের আবাদ। অধিক লাভের আশায় কৃষকরা পেঁয়াজ, ধান ও গমের মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য চাষ কমিয়ে তামাকের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এতে স্থানীয়ভাবে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েক বছর আগেও যেসব জমিতে ধান, পেঁয়াজ, গম ও পাটের আবাদ হতো, এখন সেখানে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে তামাক গাছের চাষ করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তামাক কোম্পানিগুলো চাষিদের আগাম অর্থ, বীজ ও সারসহ নানা প্রলোভন দিয়ে এই চাষে উদ্বুদ্ধ করছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক চাষে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক সার ও উচ্চমাত্রার কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, যা মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা চিরতরে নষ্ট করে দেয়। ফলে ভবিষ্যতে ওই জমিতে অন্য কোনো ফসল ফলানো কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া তামাক প্রক্রিয়াজাত করতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কাঠের প্রয়োজন হয়, যার জোগান দিতে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে গাছ। তামাক পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের মানুষের শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে।

তামাক চাষি বাবুল শিকদার জানান, তিনি পাঁচ-ছয় বিঘা জমি লিজ নিয়ে তামাক চাষ করছেন। যদিও তিনি মূলত শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এবং মৌসুম শেষে জমির মালিক তাকে পারিশ্রমিক দেন। 

অপর চাষি সোহেল জানান, একটি তামাক কোম্পানির আর্থিক সহায়তায় তিনি চার বিঘা জমিতে তামাক চাষ করছেন। প্রতি বিঘা জমি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে তিনি এই ঝুঁকিপূর্ণ চাষে জড়িয়েছেন।

সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে একদিকে যেমন খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জনস্বাস্থ্য বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন শিকদার বলেন, “অধিক লাভের আশায় কিছু চাষি তামাক চাষে ঝুঁকছেন, যা খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তামাক চাষ মাটির গুণাগুণ নষ্ট করার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমরা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছি যাতে কৃষকরা তামাক বর্জন করে লাভজনক সবজি ও অন্যান্য অর্থকরী ফসল চাষে আগ্রহী হন। তামাকের বিকল্প ফসল চাষে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর