Image description

উত্তরের জনপদ গাইবান্ধা জেলাজুড়ে এখন বসন্তের আবহ। বসতবাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বাগান—সবই এখন ছেয়ে গেছে সোনালি-সবুজ আমের মুকুলে। মুকুলের মৌ-মৌ গন্ধে সুবাসিত হয়ে উঠেছে চারপাশ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার জেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন চাষি ও কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাইবান্ধা সদর উপজেলাসহ পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় আমবাগানগুলোতে এখন মুকুলের সমারোহ। বিশেষ করে গোবিন্দগঞ্জের কাটাবাড়ি ইউনিয়নে উচ্চফলনশীল জাতের আম চাষে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ ব্যাপক হারে বেড়েছে। প্রথাগত চাষের পাশাপাশি এখন ল্যাংড়া, ফজলি, হিমসাগর, আম্রপালি এবং আধুনিক ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’ জাতের আমের বাগান গড়ে তুলছেন উদ্যোক্তারা।

গোবিন্দগঞ্জের আমচাষি আবু জাফর বলেন, "কয়েক বছর আগে এক বিঘা জমিতে বাগান শুরু করেছিলাম। গত বছর ভালো আয় হয়েছে। এ বছর গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে গত বছরের চেয়েও ভালো ফলনের আশা করছি।" অন্যদিকে পলাশবাড়ীর তরুণ উদ্যোক্তা উজ্জ্বল মিয়া জানান, তার রোপণ করা ব্যানানা ম্যাঙ্গো গাছে এবার আশাতীত মুকুল এসেছে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা পেলে গাইবান্ধাও আম উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান জানান, গাইবান্ধার মাটি ও জলবায়ু আম চাষের জন্য ক্রমেই উপযোগী হয়ে উঠছে। সময়মতো পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল রশীদ বলেন, "আমে প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষিদের সহযোগিতা করছে। আমরা আশা করছি, এবার আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।"

এক সময় শুধু বাড়ির আঙিনায় শখের বশে আমগাছ লাগানো হলেও এখন গাইবান্ধায় বাণিজ্যিক আম চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর