Image description

নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ড. আহসান এইচ মনসুরকে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অধ্যাপক মোস্তাকুর রহমান, যিনি এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক ও বিএফআইইউ-র অতিরিক্ত পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন গভর্নরের সামনে এখন ব্যাংকিং খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

এর আগে মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংক্রান্ত নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল গভর্নরের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও স্বার্থসংক্রান্ত আচরণের অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে:

গভর্নরের নির্দেশে বিএফআইইউ থেকে প্রাপ্ত গোপনীয় তথ্য পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবহার হয়েছে।

সরকারি ক্রয় নীতি উপেক্ষা করে গভর্নরের স্ত্রী ও পরিবারের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনা হয়েছে।

গভর্নরের পরিবারের সদস্যরা ৪টি গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রেখে বাজেট ও জ্বালানি সীমা লঙ্ঘন করেছেন।

ব্যাংকের মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ ও সিএসআর ফান্ডের অনুদান ব্যবহারে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে।

গভর্নরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স প্রদানে গোষ্ঠী স্বার্থ অগ্রাধিকার পেয়েছে।

অভিযোগের কারণে কাউন্সিলের তিন কর্মকর্তা বদলি করা হয়েছে। এতে ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ নওশাদ মোস্তফাকে বরিশাল, মাসুম বিল্লাহকে রংপুর ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণকে বগুড়া অফিসে পাঠিয়েছে।

কাউন্সিল নতুন গভর্নরের অধীনে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও সুশাসন অক্ষুণ্ণ থাকে।

মানবকণ্ঠ/আরআই