ইরানের বিপ্লবী গার্ড, আইআরজিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো জাহাজ তা অতিক্রমের চেষ্টা করলে তাদের ওপর গুলি চালানো হবে। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।
শনিবার রপ্তানি রুট বন্ধের ইঙ্গিত দেওয়ার পর এটি ইরানের সবচেয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তা। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। প্রণালী বন্ধ হলে বৈশ্বিক তেল প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্রভাবে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ অতিক্রম করার চেষ্টা করলে বিপ্লবী গার্ড ও নিয়মিত নৌবাহিনী তাদের ওপর হামলা চালাবে।"
শনিবার শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
বিপ্লবী গার্ডের টেলিগ্রাম চ্যানেলে আরও বলা হয়, তেল পাইপলাইনেও হামলা চালানো হবে এবং অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেয়া হবে না। তার দাবি, কয়েক দিনের মধ্যে তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বিপুল ঋণে জর্জরিত এবং এ অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল; তাদের কাছে এক ফোঁটা তেলও পৌঁছাবে না বলে জাবারি মন্তব্য করেছেন।
মূলত ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ। বৈশ্বিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে কোনও বিঘ্ন ঘটলে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সংঘাতের মধ্যে সোমবারই জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচলে বিঘ্ন এবং উৎপাদন স্থাপনায় ক্ষতির কারণে বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামে। ড্রোন হামলার পর বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি উৎপাদক কাতারএনার্জি তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। আর এর জেরে ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক গ্যাসবাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। কাতারএনার্জি তাদের উৎপাদন স্থগিত করায় ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ এবং এশিয়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে।




Comments