খুলনার দিঘলিয়ায় মাত্র ২২ দিনের নবজাতক সন্তান মোস্তাসির শেখকে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকে পুঁতে রাখার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন পাষণ্ড পিতা নাহিদুর রহমান শেখ (৩০)।
রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অপূর্ব বালার আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করেন।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহআলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ৪ দিনের রিমান্ড শেষে নাহিদুরকে আদালতে তোলা হয়। সেখানে তিনি ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় গত বুধবার নবজাতকের মা মুর্শিদা আক্তার মৌ বাদী হয়ে দিঘলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২ মার্চ বিকেলে নাহিদুর তার শ্বশুরবাড়ি দিঘলিয়া উপজেলার লাখোহাটি গ্রামে যান। পরদিন ৩ মার্চ সকালে তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে ঘরের বাইরে বের হন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় কোনো এক পর্যায়ে তিনি শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পাশের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। পরে ঘরে ফিরে স্ত্রীকে জানান, শিশুটিকে তার বাড়িতে রেখে এসেছেন। এরপর স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে তুলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পথে তিনি অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে জানান যে শিশুকে ফরিদপুরে পাওয়া যাবে। ফরিদপুরের কাছাকাছি গিয়ে নাহিদুর অসুস্থতার ভান করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে স্ত্রী চিৎকার করে অভিযোগ করেন যে তার স্বামী সন্তানকে হত্যা করেছেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় খবর দেয়। ফরিদপুর পুলিশ বিষয়টি দিঘলিয়া থানাকে জানালে ওই রাতেই পুলিশ লাখোহাটি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
গ্রেফতারকৃত নাহিদুর রহমান দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামের মাসুদুর রহমান শেখের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে লাখোহাটি গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে মুর্শিদা আক্তার মৌয়ের সঙ্গে নাহিদুরের বিয়ে হয়। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর থেকে মৌ তার বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। ফুটফুটে এক নবজাতককে নিজের পিতার হাতে এভাবে প্রাণ হারাতে হওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments