Image description

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনজীবনকে অচল করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাড়তি দামে তেল বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে এবং প্রশাসনের নজরদারির ভয়ে উপজেলার বেশ কিছু তেল ও গ্যাসের দোকান বন্ধ করে গা-ঢাকা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে সাধারণ মানুষ, কৃষক ও জরুরি সেবার যানবাহনগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে পাইকগাছা পৌর সদর, কপিলমুনি ও চাঁদখালীসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে—অধিকাংশ তেল ও গ্যাসের দোকান তালাবদ্ধ। কিছু দোকানের সামনে ‘তেল নেই’ বা ‘গ্যাস শেষ’ লেখা নোটিশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি কিনতে এসে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে শত শত সাধারণ ক্রেতাকে।

উপজেলার একমাত্র তেল পাম্প ‘আসিফ ফিলিং স্টেশনে’ গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও তেলের তীব্র সংকট। পাম্পের কর্মচারীরা দাবি করছেন তাদের কাছে তেল নেই। সেখানে একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ বেশ কিছু জরুরি যানবাহন দীর্ঘ সময় ধরে তেলের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অ্যাম্বুলেন্সের চালক জানান, রোগী নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে তিনি বড় ধরনের বিপদে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একদল অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। তারা সুযোগ বুঝে গোপনে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। খুচরা বাজারে প্রতি লিটার ডিজেল বা পেট্রোল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এলপিজি গ্যাসের প্রতিটি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

পৌর সদরের বাসিন্দা বিজয় ও কপিলমুনি এলাকার কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার গুজবে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। একদিকে বাজারে তেল নেই, অন্যদিকে সেচ মৌসুমে ডিজেল না পাওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মার্চ (২০২৬) মাসে তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখার কথা থাকলেও পাইকগাছায় সেই নির্দেশনা তোয়াক্কা করছে না অসাধু ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বাজার তদারকি জোরদার করা হলে এই অচল অবস্থার অবসান ঘটবে। তারা অবিলম্বে মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর