কাজিপুরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবীশের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার গান্ধাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবীশ আব্দুল বাছেদের বিরুদ্ধে দালালি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও ভুয়া দলিলের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রেশনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর এহেন কর্মকাণ্ডে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি দলিলের নকল তুলতে যেখানে প্রায় ৭০০ টাকা খরচ হওয়ার কথা, সেখানে নকলনবীশ বাছেদ বিভিন্ন অজুহাতে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন বলে জানা গেছে।
কেবল অতিরিক্ত অর্থ আদায়ই নয়, বাছেদের বিরুদ্ধে ভুয়া দলিল তৈরি করে জমি রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দেওয়ার মতো ভয়ংকর অভিযোগও উঠেছে। এতে অনেক প্রকৃত জমির মালিক প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে বাছেদ তাঁর এই ‘সিন্ডিকেট’ পরিচালনা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, “বাছেদকে অতিরিক্ত টাকা না দিলে কোনো কাজই এগোয় না। সরকারি ফির চেয়ে ১০ গুণ বেশি টাকা দাবি করেন তিনি। আমরা সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি।” ভুক্তভোগীরা আরও দাবি করেন, টাকা দাবি করার ভিডিও প্রমাণও তাঁদের কাছে সংরক্ষিত আছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নকলনবীশ বাছেদ। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমি নিয়ম মেনেই কাজ করি।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি অফিসে এমন প্রকাশ্য অনিয়ম বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষের সরকারি সেবার ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে যাবে। ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments