মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এ লক্ষ্যে নিরাপত্তা পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে, যেখানে ইরানের এই সামরিক তৎপরতাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি ১৩ ভোটে পাস হয়। তবে ইরানের দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে পরিচিত চীন ও রাশিয়া এই ভোটাভুটিতে অংশ না নিয়ে ভোটদান থেকে বিরত থাকে। তারা ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ না করায় প্রস্তাবটি সহজেই অনুমোদিত হয়।
গৃহীত প্রস্তাবে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলোর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে—এমন কোনো পদক্ষেপ ইরান নিতে পারবে না। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি রুট দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস বিশ্ববাজারে যায়। এই জলপথ অবরুদ্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। তবে তেহরানের দাবি, তারা কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর নয়, বরং ওই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও লক্ষ্যবস্তুগুলোতেই আঘাত হানছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রস্তাবটি কিছুটা একতরফা হয়েছে। কারণ এতে ইরানের ওপর পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার বিষয়ে কোনো নিন্দা বা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে ইরান কতটা ইতিবাচক সাড়া দেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় রয়েছে।
তথ্যসূত্র : শাফাক নিউজ
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments