ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের তীব্র হট্টগোল ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্য প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং শহীদদের স্মরণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে এই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।”
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কৃষি ও অর্থনীতির উন্নয়নে সরকার জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। সামাজিক সুরক্ষায় প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার পাশাপাশি নারীদের উন্নয়নে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় প্রতি বছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।
এদিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে অধিবেশন কক্ষে নজিরবিহীন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণের অনুরোধ জানালে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের হাতে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’ সংবলিত বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
তীব্র চিৎকার ও হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শেষ করেন। ভাষণ শেষে তিনি সংসদ ত্যাগ করার পর স্পিকার আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments