Image description

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পৌর এলাকা ও ২১টি ইউনিয়নে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই এখন হাত বাড়ালেই মিলছে মরণনেশা ইয়াবা, গাঁজা ও দেশি চোলাই মদ। দিনের আলো কিংবা রাতের অন্ধকার, প্রকাশ্যেই চলছে মাদক কেনাবেচা। মাদকের এই অবাধ সয়লাবে এলাকায় চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নবীনগর পৌর এলাকার ভোলাচং ঋষিপাড়া (৯নং ওয়ার্ড), নারায়ণপুর (৭নং ওয়ার্ড), সদর বাজার (৪নং ওয়ার্ড), মনতলি ও করিমশাহ (৩নং ওয়ার্ড) এবং বালুর চর (২নং ওয়ার্ড) এলাকা এখন মাদক কেনাবেচার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ভোলাচং ঋষিপাড়াকে মাদক কারবারিরা নিরাপদ ‘ডিলিং পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র হরিজন ও ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষদের ব্যবহার করে এলাকায় দেশি চোলাই মদের অস্থায়ী কারখানা গড়ে তুলেছে। এছাড়া শিবপুর-রাধিকা সড়কটি মাদকের বড় যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ঋষিপাড়া এখন মাদকসেবী ও কারবারিদের নিরাপদ অভয়ারণ্য। এই চক্রটি এতটাই শক্তিশালী যে, কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি বলেন, “মাদকের আগ্রাসনে আমাদের তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের চোখের সামনে এসব ঘটলেও কার্যকর কোনো সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না।”

এলাকার বিশিষ্টজনরা বলছেন, মাদকের কারণে এলাকার সামাজিক বন্ধন ও নৈতিকতা ভেঙে পড়ছে। নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু মোছা ও মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কান্তি কুমার ভট্টাচার্য বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজকে গ্রাস করছে। জরুরি ভিত্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের বিকল্প নেই।

মাদকের এই ভয়াবহতার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছি। শিগগিরই বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই চক্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।” তিনি অপরাধীদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং তথ্যদাতার নাম গোপন রাখার নিশ্চয়তা দেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর