নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে জড়িয়ে একটি কথিত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি সম্পূর্ণ ভুয়া ভিডিও।
সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও ক্লিপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক নারীর সঙ্গে ইউএনও’র মতো দেখতে এক ব্যক্তিকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি বিভিন্ন আইডি ও গ্রুপে শেয়ার হওয়ার পর হাতিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সরকারি দপ্তরের অলিন্দে—সবখানেই এখন এই বিষয়টি নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন মানবকণ্ঠকে বলেন, “ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। বর্তমান সময়ে এআই বা ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা খুব সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে কোনো একটি চক্র এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ভিডিওটি তৈরি করেছে।”
তিনি আরও জানান, এর সঙ্গে তাঁর বিন্দুমাত্র কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং যারা এই অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি নিয়ে প্রশাসনের উচ্চমহলে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। ভিডিওটি প্রকৃত কি না নাকি সত্যিই প্রযুক্তির মাধ্যমে কারসাজি করা হয়েছে, তা যাচাই করার জন্য সাইবার বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, কোনো তথ্য বা ভিডিওর সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রযুক্তির যুগে এমন বিভ্রান্তিকর বিষয় সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন হাতিয়ার সর্বস্তরের মানুষ।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments