Image description

বাবার নিথর দেহ সামনে পড়ে আছে, অথচ শেষ বিদায় জানানোর সময়টুকুতেও মুক্ত হতে পারেননি তিনি। আইনের অমোঘ বিধানে হাতকড়া পরিহিত অবস্থাতেই বাবার জানাজায় অংশ নিতে হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এমরান হোসেন উজ্জ্বলকে (৩৮)। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পিরোজপুরের জিয়ানগর (ইন্দুরকানী) উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়।

কারাগার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার বিকেলে উজ্জ্বলের বাবা সিদ্দিকুর রহমান আকন (৭৫) ইন্তেকাল করেন। একমাত্র ছেলেকে বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র ৪ ঘণ্টার জন্য তাকে শর্তসাপেক্ষ মুক্তি দেওয়া হয়। সকাল ১০টায় কড়া পুলিশি পাহারায় বাবার জানাজায় অংশ নেন উজ্জ্বল।

এমরান হোসেন উজ্জ্বল স্ত্রী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত আড়াই বছর ধরে পিরোজপুর জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। কারাগারে থাকাবস্থায়ই তিনি বাবার মৃত্যুর খবর পান।

উজ্জ্বলের নিজ বাড়িতে অবস্থানকালীন সময়ে পিরোজপুর সদর ও ইন্দুরকানী থানা পুলিশের একটি শক্তিশালী দল তাঁর চারপাশ ঘিরে রাখে। জানাজা শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অল্প সময় কাটানোর পর দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে পুনরায় পিরোজপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর উজ্জ্বল পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁর বর্তমান সংসারে আড়াই বছর বয়সী দুটি যমজ সন্তান রয়েছে। দীর্ঘ দিন পর বাবাকে কাছে পেয়ে সন্তানদের আকুতি আর হাতকড়া পরা অবস্থায় উজ্জ্বলের কান্নায় জানাজাস্থলে এক করুণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসী জানান, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেও বাবার প্রতি ছেলের শেষ শ্রদ্ধার এই দৃশ্যটি উপস্থিত সবার মনে দাগ কেটে গেছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই