Image description

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ঝড়ে বিদ্যুতের ৯টি খুঁটি উপড়ে পড়ায় উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৯টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ৩৯৯ হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার ওপর দিয়ে প্রচণ্ড বেগে ঝড় শুরু হয়। এর আগে গত রবিবার রাতেও একই এলাকায় ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। দু’দফা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাপমারা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ, চকরহিমাপুর, খামারপাড়া, মাদারপুর এবং দরবস্ত ইউনিয়নের গোশাইপুর, রামনাথপুর, দুর্গাপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের শত শত কাঁচা-পাকা ও টিনশেড ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। অনেক ঘরের চাল উড়ে গেছে কয়েকশ গজ দূরে। বিশাল সব গাছ উপড়ে বসতবাড়ির ওপর পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

ক্ষতিগ্রস্ত সাহেবগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দে বাতাস শুরু হইলো। কিছু বোঝার আগেই চোখের সামনে ঘরের চাল উইড়া গেল। দুইটা বড় গাছ শোবার ঘরের ওপর পড়ছে। অল্পের জন্য জানটা বাঁচলেও এখন সন্তানদের নিয়া খোলা আকাশের নিচে আছি।’ ৬০ বছর বয়সী মরিয়ম বেগম জানান, শিলাবৃষ্টির তীব্রতায় ঘরের টিন ফুটো হয়ে চালনি হয়ে গেছে।

ঝড়ে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝড়ে ঘরবাড়ির পাশাপাশি ভুট্টা, কলা ও শাকসবজিসহ ৩৯৯ হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় সোমবার রাত থেকেই ৯টি ইউনিয়ন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মানবকণ্ঠ/ডিআর