Image description

ফুটবল বিশ্বের চিরন্তন বিতর্ক ‘মেসি না রোনালদো—সেরা কে?’ এই আলোচনার মাঝে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মত দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ডিফেন্ডার কাফু। তার মতে, বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের মধ্যে প্রতিভার বিচারে নেইমার জুনিয়র কেবল সেরা নন, বরং তিনি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়েও এগিয়ে।

দীর্ঘদিন ধরে ব্যালন ডি’অর, গোলসংখ্যা ও বিশ্বকাপ অর্জনের মানদণ্ডে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ চলে আসছে। অধিকাংশের মতে, বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসি সর্বকালের সেরা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে কাফু এই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নেইমারের পক্ষে সাফাই গাইলেন।

কাফু বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে নেইমার মেসির চেয়েও বড় খেলোয়াড়। তার স্কিল, সৃজনশীলতা ও খেলার শৈলী বর্তমান প্রজন্মের অন্য যে কারও চেয়ে অনেক উঁচুতে। প্রতিভার বিচারে নেইমারই সবার উপরে।’

তবে কেবল প্রতিভায় ফুটবল চলে না, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন এই কিংবদন্তি। পরিশ্রম ও ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গে তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে সবার আগে রেখেছেন। কাফুর ভাষ্য, ‘যদি আপনি প্রতিশ্রুতি, কঠোর পরিশ্রম ও অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার কথা বলেন, তবে আমি সিআরসেভেনকেই বেছে নেব।’

নেইমারের অর্জনের পথে বড় বাধা হিসেবে তার একাকী লড়াইকেও দায়ী করেন কাফু। তিনি জানান, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ব্রাজিল দলে নেইমারকে একাই আক্রমণভাগের মূল ভার বইতে হয়েছে। তার সমমানের স্থায়ী সঙ্গী না থাকায় দলগত ভারসাম্য অনেক সময় নষ্ট হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নেইমারের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও।

বর্তমানে ইনজুরি জর্জর ক্যারিয়ার ও ২০২৬ বিশ্বকাপে নেইমারের খেলা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এমনকি ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি ফিটনেস ইস্যুতে নেইমারকে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উইন্ডোর দলেও রাখেননি। কোচের এই কঠোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে কাফু বলেন, ‘আনচেলত্তি একজন সৎ ও পেশাদার কোচ। তিনি যা করেন তা দলের স্বার্থেই করেন। নেইমারকে দলে ফিরতে হলে নিয়মিত খেলে নিজের ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে।’

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসবে ফুটবল বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর। মেসি, রোনালদো ও নেইমার—এই তিন মহাতারকাকে ঘিরেই এখন ভক্তদের সব উন্মাদনা আবর্তিত হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর