Image description

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) তীব্র সংকটে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে আইসিইউ শয্যার অপেক্ষায় থেকে এবং সময়মতো উন্নত চিকিৎসা না পেয়ে ৪৪টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া এই তথ্য জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালেও হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে ৪১ জন মুমূর্ষু শিশু আইসিইউর একটি শয্যার জন্য অপেক্ষার তালিকায় ছিল। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য নির্ধারিত মাত্র ১২টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। রাজশাহী ছাড়াও খুলনা ও রংপুর বিভাগ থেকে আসা রোগীর বিপুল চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালটি।

আইসিইউ বিভাগের ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, গত ১০ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ৪৪ জন শিশু আইসিইউর সিরিয়ালে থাকাকালীন মারা গেছে। অনেক সময় সিরিয়াল আসার পর স্বজনদের ফোন করা হলে উত্তর আসে— ‘শিশু আর বেঁচে নেই’। প্রতিদিন গড়ে প্রায় অর্ধশত শিশু আইসিইউর জন্য অপেক্ষমাণ থাকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের চিকিৎসার জন্য নগরের টিবি পুকুর এলাকায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যার ‘রাজশাহী শিশু হাসপাতাল’ নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে ১২টি আইসিইউ শয্যা থাকার কথা থাকলেও জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে কয়েক বছর ধরে হাসপাতালটি বন্ধ পড়ে আছে। অন্যদিকে, রামেক হাসপাতালেও নতুন ২০ শয্যার একটি শিশু আইসিইউ ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও লোকবলের অভাবে সেটিও দুই বছর ধরে পড়ে আছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। হাসপাতালের দুটি ইউনিটে ১৬০টি শয্যার বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৭৫০ জন শিশু ভর্তি আছে। এর মধ্যে অন্তত ৫ শতাংশ শিশুর আইসিইউ প্রয়োজন হয়।’ তিনি আরও জানান, নতুন একটি আইসিইউ কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে, যা জনবল ও সরঞ্জাম পেলেই দ্রুত চালু করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অব্যবহৃত পড়ে থাকা শিশু হাসপাতাল ও রামেক হাসপাতালের নতুন আইসিইউ ইউনিট দ্রুত চালু করতে পারলে এমন অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হতো।

মানবকণ্ঠ/আরআই