কাগজে-কলমে শতভাগ বিদ্যুৎ থাকলেও কলাপাড়ার শত শত পরিবারের ভরসা কেরোসিন বাতি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলাকে কাগজে-কলমে শতভাগ বিদ্যুৎসম্বলিত উপজেলা ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। উপজেলার একাধিক গ্রামের শত শত পরিবারের কাছে বিদ্যুৎ যেন এখনো এক অধরা স্বপ্ন। আধুনিক যুগেও এসব জনপদে রাতের অন্ধকার দূর করতে একমাত্র ভরসা হয়ে আছে আদিম কেরোসিন বাতি বা হ্যারিকেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নথিপত্রে কলাপাড়া উপজেলাকে অনেক আগেই শতভাগ বিদ্যুৎসম্বলিত এলাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম মধুখালী, উত্তর চরপাড়া ও ইসলামপুর গ্রামের অধিকাংশ পরিবার গত ৪ বছর ধরে বিদ্যুৎ সুবিধার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। টাকা খরচ করেও মেলেনি সংযোগ।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসী জানান, বিদ্যুৎ পাওয়ার আশায় তারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, ঠিকাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বছরের পর বছর ধরণা দিয়েছেন। অনেকেই সংযোগ দেওয়ার কথা বলে গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবুও জ্বলেনি বিদ্যুতের আলো। ফলে এসব পরিবারের সন্তানদের আজও কেরোসিন বাতির মৃদু আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
পশ্চিম মধুখালী গ্রামের আবু ইউসুফ আকন বলেন, “আমাদের বাড়িসহ আশপাশের অন্তত ১০টি পরিবারে বিদ্যুৎ নেই। খুঁটি বসানোর নাম করে ঠিকাদারের লোকজন আমাদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নিয়েছে। তিনটি খুঁটি বসানো হলেও এখন পর্যন্ত তার টানা হয়নি।”
আরামগঞ্জ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. সিয়াম বলে, “রাত হলেই কেরোসিনের কুপি বা হ্যারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে হয়। অনেকের সোলার থাকলেও তা দিয়ে বেশিক্ষণ চলে না। আমরা বিদ্যুতের আলোয় পড়তে চাই।”
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল বলেন, “এই তিন গ্রামের শতাধিক পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বহুবার তাগিদ দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ফল পাওয়া যায়নি।”
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দী জানান, এই গ্রামগুলো ছাড়াও আরও পাঁচটি গ্রামের কিছু অংশ বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। সেখানে প্রায় ১৮ কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা প্রয়োজন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকলেও তা কিছুটা সময়সাপেক্ষ।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, “এই তিন গ্রামের মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার জন্য উপজেলা ও জেলা পরিষদের সভায় লিখিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিদ্যুৎ বিভাগকে কঠোরভাবে অবহিত করা হয়েছে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments