Image description

ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ইতালিতে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন দুই যুবক। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। লিবিয়ার একটি বন্দিশালায় দালালচক্রের নির্মম নির্যাতনে মাদারীপুরের দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্ত দালালচক্র এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

নিহতরা হলেন; মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বিনতিলুক এলাকার মৃত সেকেন হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার এবং কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ জনারদন্দি গ্রামের কালাম হাওলাদারের ছেলে ইলিয়াস হাওলাদার।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজমিস্ত্রির কাজ করা ফারুক হাওলাদার গোপালপুর এলাকার মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য হাবিবুর রহমান খন্দকারের প্রলোভনে পড়ে প্রায় চার মাস আগে ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। সৌদি আরব হয়ে তিনি লিবিয়ায় পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা আদায় করে দালালচক্র। পরবর্তীতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি নেওয়ার কথা থাকলেও মুক্তিপণের জন্য আরও টাকা দাবিতে তার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। একপর্যায়ে সেই নির্যাতনেই প্রাণ হারান ফারুক।

একইভাবে, দালাল হাবিবুর রহমান খন্দকারের প্রলোভনে পড়ে লিবিয়ায় যান ইলিয়াস হাওলাদার। সেখানে মাফিয়াদের হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এরপরও অতিরিক্ত টাকার জন্য চাপ ও নির্যাতন চালানো হলে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখা হলেও, পরে লিবিয়ায় অবস্থানরত পরিচিতজনদের মাধ্যমে সোমবার তার মৃত্যুর খবর পরিবারে কাছে পৌঁছায়।

নিহত ফারুকের স্ত্রী লাবনী আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছোট দুই সন্তান নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচবো? আমি সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। যদি জানতাম এমন পরিণতি হবে, তাহলে তাকে কখনো বিদেশ যেতে দিতাম না।”

অপরদিকে, ইলিয়াসের বাবা কালাম হাওলাদার বলেন, “ছেলের মৃত্যুর পর একটি চক্র বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিচ্ছে। অভিযুক্ত দালাল এলাকাতেও নেই। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।”

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ডাসার ও কালকিনি উপজেলার দুই যুবকের লিবিয়ায় মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে। পরিবার আইনগত সহায়তা চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, নিহত ইলিয়াস হাওলাদারের পরিবারে স্ত্রী ও দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে। আর ফারুক হাওলাদারের পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত দালাল হাবিবুর রহমান খন্দকার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন।