Image description

হয়রানি, মিথ্যা মামলা আর ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী—এই তিন অস্ত্রকে সামনে রেখে আশিয়ান গ্রুপের আবাসন প্রকল্পের জমি দখলের অভিযোগে নতুন করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এম এ কাইয়ুম, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান গোলাম রসুল এবং আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াকিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পক্ষ তাদের বিচার দাবি করেছেন।

আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের এবং প্রকল্প দখলের উদ্দেশ্যে চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের আগে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া পরিবারসহ দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হয়, যার সংখ্যা প্রায় ৩৬টি বলে দাবি করা হয়েছে। এসব মামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আশিয়ান গ্রুপের মূল্যবান আবাসন প্রকল্পের জমি দখল করা।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের অনুসারী উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ১৯৭১ সালের আগে থেকে বাবার সঙ্গে পাটের ব্যবসা শুরু করি। ১৯৭৫ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তৎকালীন গুলশান থানার অন্তর্ভুক্ত বরুয়া এলাকায় স্বনির্ভর সভায় তাকে বুকে জড়িয়ে বলেন, “বাবা তুমি কেমন আছো? তুমি বাসায় এসো।” অল্প বয়সে জিয়াউর রহমানের এমন আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে সেই থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং বিএনপির আদর্শে এখনও অটল রয়েছেন।

কাইয়ুম, গোলাম রসুল ও ওয়াকিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়, নরসিংদীর বাসিন্দা এম এ কাইয়ুম বাড্ডা এলাকায় লজিং মাস্টার হিসেবে জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াকিল উদ্দিনের সঙ্গে মিলে জমি দালালি এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে আবাসন ব্যবসায় প্রবেশ করেন। ২০০৯ সাল থেকে তারা খিলক্ষেত, বরুয়া, তলনা, ডেলনা, পাতিরা ও বাউতার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে স্থানীয়দের জমি দখল করে ‘স্বদেশ প্রপার্টিজ’ নামে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলেন। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট এবং একাধিক হত্যার অভিযোগও রয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু অংশের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এই প্রকল্প পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেজর (অব.) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এমপি হওয়ার পর কাইয়ুম স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা পান এবং ঢাকা-১১, ১৭ ও ১৮ আসনে আধিপত্য বিস্তার করেন। কাইয়ুমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করলে এলাকার মানুষ স্বস্তি পাবেন বলে স্থানীয়দের অভিমত।

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাবেক প্রধান গোলাম রসুলকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়াকে ধারাবাহিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এই হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। গোলাম রসুলের কাছে গেলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “কাইয়ুমের আগে বিএনপিতে তার কোনো অবস্থানই ছিল না। বাড্ডা এলাকায় তার কোনো প্রভাব ছিল না। নরসিংদী থেকে এসে লজিং মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন, পরে গুদারাঘাট এলাকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি চক্র আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুই দলের নাম ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তারা দল বদলে একইভাবে প্রকল্প ও সংগঠন পরিচালনা করে আসছে।

আশিয়ানের আবাসন প্রকল্প দখলের উদ্দেশ্যে দুই থেকে চারশত ভাড়াটিয় সন্ত্রাসী নিয়ে প্রকল্প দখল করার চেষ্টা চালায় এম এ কাইয়ুম। সেখানে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এম এ কাইয়ুমের লোকজন।

নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ন্যায়বিচার চেয়ে বলেন, “আমার যদি কোনো অপরাধ থাকে, আইন অনুযায়ী বিচার হোক। কিন্তু মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও প্রকল্প দখলের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। এম এ কাইয়ুম, গোলাম রসুল ও ওয়াকিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চত করতে হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।