বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবা গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহের নান্দাইলে ১৬ বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে। ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত সৎ বাবাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম ওই গ্রামের মৃত ইসলাম মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ বছর আগে আব্দুল হাকিম পার্শ্ববর্তী মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের এক বিধবাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় ওই নারীর সঙ্গে তার বাকপ্রতিবন্ধী কন্যা সন্তানটিও আব্দুল হাকিমের বাড়িতে আসে। অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে ওই কিশোরীকে নিজের ঘরে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে আব্দুল হাকিম। লোকলজ্জার ভয় ও বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকির কারণে কিশোরীর মা বিষয়টি প্রথমে চেপে গিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে এবং চিকিৎসকের পরীক্ষায় সে অন্তঃসত্ত্বা বলে প্রমাণিত হলে মা বিষয়টি এলাকাবাসীর কাছে প্রকাশ করেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত আব্দুল হাকিমকে আটক করে। পরে শনিবার তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
কিশোরীর মা জানান, আব্দুল হাকিম দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। প্রতিবাদ করলে তাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। মেয়ের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করানোর পর তিনি সত্য জানতে পারেন এবং বাধ্য হয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে জানান।
নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীও ইশারা- ইঙ্গিতে তার এই অবস্থার জন্য সৎ বাবাকে দায়ী করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments