Image description

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আজ ১৮ জেলার ৩০ উপজেলা ও পৌর এলাকায় শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাম-রুবেলার জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে। দেশজুড়ে হামের উচ্চ সংক্রমণ বিবেচনায় প্রথম ধাপে প্রায় ১২ লাখ ৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এই উদ্যোগ ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সি (৫৯ মাস পর্যন্ত) সব শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে। তারা আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক, সবাই টিকা পাবে। 

টিকার পাশাপাশি শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে যেসব শিশু অসুস্থ শুধু তারাই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলটি পাবে। শনিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এদিকে সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় শুক্রবার সকাল আটটা থেকে শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু (সন্দেহভাজন মৃত্যু) হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত শনাক্ত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও দুজন। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১১৪ জনের মৃত্যু হলো। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭৮৭ জন। এছাড়া ৬০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে মোট ৬৪৭৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী এবং ৮২৬ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। অদ্যাবধি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪ হাজার ৬২৮ জন সন্দেহভাজন রোগী। আর ছাড়পত্র পেয়েছে মোট ২ হাজার ৬৫৪ জন। এর বাইরে ১৫ মার্চ থেকে মোট ১৬ জন নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আর সন্দেহজনক হাম রোগে মারা গেছে আরও ৯৮ জন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে, আগে টিকা নেওয়া থাকলে আবারও দেওয়া যাবে কিনা। তবে যারা ইতঃপূর্বে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা নিয়েছে, তারাও এই বিশেষ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। একাধিকবার এই টিকা নিলেও শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি নেই।’ 

আজ (রোববার) প্রথম ধাপে যেসব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে সে তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় টিকাদানবিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি (এনআইটিএজি) একটি জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করেছে। কার্যক্রমটি একটি সমন্বিত প্রতিরোধ পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।